The Paradox of Fear: Limiting the Infinite
পৃথিবীতে সবকিছুরই শুরু আছে, নতুনত্ব আছে। স্বাভাবিক নিয়মের ছন্দে মানুষের কাছে প্রায়ই কিছু জিনিস নতুন এবং প্রথম কেননা প্রথম কদম এর পরই তো দ্বিতীয় কদমের আগমন। প্রথম এর যেমন রয়েছে আনন্দ ও উত্তেজনা ঠিক তেমনি রয়েছে এক সুপ্ত আতংক ও ভয়। মানুষ নতুনত্ব বরাবরই ভালোবাসে নতুন কিছু করতে চায় কিন্তু সকল শুরুরই প্রথম আছে আর এই প্রথমেই যত আড়ষ্টতা আর ভয়। এই ভয়কে যারা জয় করে প্রথম ধাপে পা রাখতে পারে তারাই তাদের জীবনে নতুন কিছু করতে পারে সৃষ্টিশীল, সৃজনশীলতা তাদের হাত ধরেই আসে।
ভয় যেমন সৃজনশীলতার পথে বাঁধা ঠিক তেমনি ভয় আমাদের জন্য অজানা বিপদের রক্ষাকবচ ও বটে ভয়ের এই দ্বিমুখী অবস্থাকে আমরা বলতে পারি 'ভয়ের প্যারাডক্স'।
ভয়ের প্যারাডক্স কিভাবে কাজ করে –
ভয় মানুষকে আগাম সতর্ক করে পূর্ব সতর্কতা বাণী প্রেরণ করে অনাগত বিপদের ঝুঁকি সম্পর্কে যার ফলে আমরা জানতে পারি আমরা যা করছি বা করতে যাচ্ছি তা আদৌও সঠিক সিদ্ধান্ত কিনা। অনেক ক্ষেত্রেই ভয়ের স্বভাবসুলভ আতঙ্ক মিশ্রিত সঙ্কেত আমাদের অযাচিত বিপদের হাত থেকে বাঁচায় এবং রক্ষাকবচ হিসেবেও কাজ করে।
১.ভয় মানুষকে বিপদ এড়াতে সাহায্য করে কিন্তু ভয় যদি আমাদের সৃজনশীলতা বিকাশে বাধা দেয় তবে তা ভয়ের প্যারাডক্স
২.ভয় মানুষকে নতুন উদ্যোগ নিতে ভাধা প্রদান করে অহেতুক আতঙ্কিত করে তোলে
৩.ভয় মানুষকে পুরনোকে আঁকড়ে থাকতে বাধ্য করে ফলে নতুন গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হয় না
৪.পরাজয় বা ব্যর্থতার ভয় মানুষকে নতুন কিছু করা বা নতুন পথ বেঁচ নেয়ার পথে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে
ভয়ের সৃষ্টি –
সাধারণত মস্তিষ্কের এমিগডালা নামক অংশ আমাদের হুমকি শনাক্ত করে এবং আমাদের আগাম ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য সংকেত প্রেরণ করে থাকে। এই অবস্থায়ই সাধারণত ভয়ের সৃষ্টি হয়।
ভয় কিভাবে সৃজনশীলতার পথে বাঁধা –
v ভয়ের ফলে যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয় তাই মানুষকে ভিন্ন কিছু ভাবতে বা ভিন্ন কিছু শুরুর পথে বাঁধা সৃষ্টি করে থাকে
v সৃজনশীলতা ও নতুনত্ব মানেই ঝুঁকি কিন্তু ভয় আমাদের ঝুঁকি নেয়ার মনোবলকে অনেকখানি ভেঙ্গে দেয়
v ভয়ের ফলে মানুষ চিরচেনা পুরনো পথ বেছে নেয় ফলে নতুন পথ তৈরির সুযোগ হয় না
v সমালোচনার ভয় কে কি বলবে এই চিন্তা নতুন কিছু করার পথে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে কাজ করে এবং সর্বোপরি এটি মানুষের আত্নবিশ্বাসকে হ্রাস করে।

ভয়কে মোকাবেলা করা –
ভয় আমাদের জীবনেরই অংশ। ভয় যেমন বাঁধা তেমনি ক্ষেত্রবিশেষে এটি আমাদের রক্ষক ও বটে। ভয়কে জয় করা খুব সহজ যেমন নয় তেমনি খুব কঠিন ও নয়।
প্রাথমিক ভাবে যে জিনিস নিয়ে ভয় তা চিহ্নিত করুন তার পিছনে ভয়ের কারণ নির্ধারণ করুন আপনি ভয় কেন পাচ্ছেন তার যৌক্তিকতা নিরূপণ করার চেষ্টা করুন। যদি যৌক্তিকতা নেহাৎই কম হয় সেক্ষেত্রে নিজে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে এই ভয় নিতান্তই আমূলক। পাশাপাশি ভয়ের বস্তু বা উৎস থেকে পালানো যাবে না তার মুখোমুখি সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হবে এবং কিছুটা মিথ্যা সাহস নিয়েই দাঁড়িয়ে পড়ুন তাকে মোকাবেলা করুন। আপনার ভয়ের সময় বিবেচনা করুন এর দীর্ঘকালীন ও স্বল্পকালীন সক্ষমতা বা প্রভাব বিবেচনায় রাখুন এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে ধারণা অর্জন করুন এবং সচেতন হোন এটি আপনার বর্তমান জীবনকে কতটুকু প্রভাবিত করে বা ভবিষ্যতেও কতটুকু করতে পারে।

ভয়কে নিয়ন্ত্রণে যা যা করা সম্ভব -
Ø ভয়কে তথ্য হিসেবে দেখুন এবং ভয়ের বাস্তব ভিত্তি যাচাই করুন
Ø বড় লক্ষ্য পূরণে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন
Ø ব্যর্থতাকে ভয় নয় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করুন এবং শেখার অংশ হিসেবে দেখুন
Ø ভয় নিয়ে কাছের কোনো বন্ধু বা কারোর সাথে কথা বলুন
Ø ভয়ের স্থায়িত্ব ও গুরুত্ব উপলব্ধি করুন আদৌও এটি গুরুত্বপূর্ণ কিনা যাচাই করুন
Ø ভয় থাকা সত্ত্বেও সাহস রাখুন সাহসের বলে সামনে এগিয়ে যান
Ø প্রয়োজনে শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাস করুন
মানুষের আদিম বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে অকৃত্রিম ও চীর প্রাচীন সাহস ও ভয়ের গল্প গাঁথা। ভয় নতুন কিছু নয় এটি স্বাভাবিক জীবনেরই একটি অংশ। আমাদের বর্তমান এই আধুনিক যুগ আমদের পূর্বপুরুষরা অজানার ভয় জয় করতে পেরেছে বলেই সম্ভব হয়েছে। ভয় ক্ষতি যেমন করে তেমনি ক্ষেত্রবিশেষে এর উপকার ও বিদ্যমান এটি মানুষকে আগাম বিপদের সংকেত প্রেরণ করে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেও সাহায্য করে থাকে। ভয়ের উপকার অপকার পাশাপাশি অবস্থানে ভয় চিরায়তই প্যারাডক্সিকাল। অনেকের মতে ভয় বিভ্রম ও বটে। যেমন বাস্কেটবল খেলোয়াড় মাইকেল জর্ডানের মতে, “Never
say never because limits, like fears, are often just an illusion.” এছাড়াও ভয় নিয়ে নানা বিভ্রান্তি জনমনে শুরু থেকেই স্পষ্ট। ভয়, ভয়ের অস্তিত্ব ও অবস্থান যাই হোক না কেন আমরা যদি ভয় জয় করতে চাই নিজেদের সৃজনশীলতার পূর্ণ প্রস্ফুরণ ঘটাতে চাই তবে সাহসের সাথে এগিয়ে যাওয়াই উত্তম পন্থা হতে পারে।
মূল শব্দ : ভয়, সাহস, প্যারাডক্স, সৃজনশীলতা
লেখক
সামিয়া আক্তার
কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
ইন্টার্ন
Comments (0)
Leave a Comment